Chapter 2 / 51 · 2 min
একটি সুইসাইড
অরনী বলল, “পুশ মি”
সাব্বির চমকে উঠলো, অরণী ২৬ তলা বিল্ডিং এর ছাদের রেলিং এ বিপজ্জনক পা ছড়িয়ে বসা, এই অবস্থায় ধাক্কা দিতে বলার একটাই মানে - অরণীকে হঠাত একটু ভয় লাগল তার।
“নেমে এসো অরণী”
“না”
“কিছু হয়েছে?”
“প্রবাবলি, তুমি কিছু বলতে চাও?”
আমার বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো - সাবরিনার ব্যপারটা কি তাহলে অরণী জানে? শিট শিট শিট - মুখ দেখাবো কিভাবে ওকে তাহলে?
“রিমেমবার? ক্লাস ফোরে থাকতে পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে তোমাকে ঠিক এভাবেই বলেছিলাম, পুশ মি ? তখন আমার কাছে মৃত্যুকে অনেক এট্রাকটিভ লাগত - কিন্তু তুমি মরতে দাওনি।”
আমি চুপ করে থাকি, আসলেই কি সাবরিনার ব্যাপারটা ও জানে?
“You came into my life. You gave me a reason to live, then you cheated.”
“বেডরুমে আমার সুইসাইড নোট রাখা আছে - কেউ তোমাকে ব্লেইম করবেনা। এটলিস্ট এতটুকু তো করতে পারো আমার জন্য?”
সত্যি বলতে আমার বেশ কয়েকবার মনে হয়েছে ছোটবেলা থেকে সুইসাইডাল অরণী নিজে মরে গেলে পুরো ব্যাপারটা খুব সহজ হয়ে যেত আমার জন্য- কিন্তু আমি নিজে ওকে কিভাবে মারব?
“If it helps - I tried to kill you yesterday - চা তে ঘুমের ওষুধ ছিল - তুমি খাওনি”
এটা শোনার পরে আমার কি হল আমি জানিনা - আমি হঠাত করে ধাক্কা দিলাম অরণীকে। ছাব্বিশতলা ছাদ থেকে নিচে পরে মাথাটা থেঁতলে গেলো - সম্ভবত মস্তিষ্কের অনেক খানি বের হয়ে এসেছে - অত উপর থেকে ভাল বোঝা যায়না।
আমি অনুভূতিহীন ভাবে বাসায় ফিরে আসলাম, অরণীর লাশ নিয়ে ফেইক কান্না করার চেয়ে মরার আগে কি লিখেছে সেটা পড়তে ইচ্ছে করছে।
বাসায় এসে আমি বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে বিছানায় পড়ে থাকা কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি।
সুইসাইড নোট না, অরণী জিডী করেছে।
অরণীর মনে হচ্ছিল তার স্বামী তাকে মেরে ফেলবে।