← Site আমি যেভাবে ভালো মানুষ হয়ে উঠলাম

Chapter 8 / 51 · 2 min

অভিযোজন


অপর্ণার হাজব্যান্ড সুব্রত বেশ অমায়িক লোক, আমাকে উঠতেই দিলোনা। একপ্রকার জোর করে ধরে রেখে বলল, “অপর্ণার মুখে আপনার অনেক গল্প শুনেছি। ডিনার না করিয়ে আজ ছাড়ছিনা!” আমি হাসলাম, বললাম, “তাহলে তো মনে হয় আপনি আমাকে দেখতে পারেন না - অপর্ণা তো আমার বদনাম ছাড়া ভালো কিছু বলতে পারেনা!”

অপর্ণা চোখ পাকালো, বললো, “তুমি আসলে বদের হাড্ডি ছিলে , আগে বদনাম করিনি - এখন থেকে করবো”

আমি জবাবে কিছু বলার আগেই সুব্রত বলল, “আপনি থাকছেন তো? প্লীজ ? ডিনার করে যান?”

আমি কৃত্রিম অথচ আন্তরিক একটা হাসি দিয়ে বললাম, “পড়েছি মুঘলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে!”

খাবার টেবিলেও অপর্ণা স্বাভাবিক ছিল। সুব্রত একাই বক বক করে গেল। তাদের নিজেদের পুকুরে কতবড় মাছ ধরা পড়েছিল সেই গল্প। আমি মনোযোগ দেয়ার ভান করে একটু পর পর অপর্ণার দিকে তাকাচ্ছিলাম। দুই বছরে অনেক বদলে গেছে।

পুরোদস্তর সংসারী এখন, অনেক প্রেসার বোঝা ই যাচ্ছে - বাধাই করে রাখা সে শরীর টা আর নেই। ভেঙে গেছে। মুগ্ধ শ্রোতা হয়ে সে সুব্রতর গল্প শুনছে - এই গল্প নিশ্চয় ওর বাসায় যে আসে সুব্রত তাকেই এই গল্প শোনায়। প্রতিবার একই অভিব্যক্তিতে একই গল্প শুনছে অপর্ণা - যে অপর্ণা একই কাপড় দুই বার পড়তোনা - ভালো লাগে না বলে।

সম্ভবত একেই অভিযোজন বলে। খাওয়া শেষে অপর্ণা তার বাচ্চাকে নিয়ে আসলো, ভাবলেশহীন চোখে বলল, “ওর নাম অগ্নীল” অপর্ণা জানে, আমি বাচ্চা কাচ্চা পছন্দ করিনা। কোলে দেয়নি তাই। আমি দেখলাম, একদম অপর্ণার চেহারাটাই পেয়েছে। ঘড়িতে এগারোটা তখন, আমি সুব্রতকে বললাম, “এইবার যাই, অনেক রাত হয়ে গেসে”

সুব্রত বলল,”থেকে যান না! গেস্ট রুম তো খালি ই”

আমি বললাম, “আরেকদিন, অপর্ণা যাই রে!”

সুব্রত বাচ্চাকে নিজের কোলে নিলো, বলল , “ অগ্নীল আব্বু… তোমার মামাকে গুডবাই বলো… “

এক মুহুর্তের জন্য আমার সাথে অপর্ণার চোখাচোখি হলো, শুধু একমুহুর্তের একটা লুকানো অনুভূতি।

দুইবছর আগে অপর্ণা শুধু একটা সন্তান চেয়েছিল, আমি শুধু একটা নারীর শরীর চেয়েছিলাম।

মামা তো নই, বাবা।