Chapter 13 / 51 · 2 min
নীল-ন্যাফথলিন
আমার গল্পঃ
আমি বোধহয় নীলাকে সত্যিই ভালবেসেছিলাম,কিন্তু আরো ২০ বছর আগে সেটা বুঝতে পারিনি।
যদি বুঝতাম তবে কখনোই নীলাকে বলতাম না,“আমি চললাম..ছেলেটা ভালই,তুমি ওকে বিয়ে করে নিও।”
নীলার সেদিনের ফ্যাকাশে চাহনি টা আমার আজো মনে আছে…অন্যদিকে তাকিয়ে চোখের কোণে জমে থাকা পানিটুকু গোপন করতে করতে নীলা বলেছিল,“আমি জানতাম সুব্রত..তুমি এই কথাটাই বলবে।”
“জানতে..?”
“হ্যা।তুমি কখনোই আমায় ভালবাসনি। যদি বাসতে,আজ যেতে দিতে না। বলতে আরো কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর..চাকরী একটা পেয়ে যাব।”
আমি হাসার চেষ্টা করলাম, মেয়েদের কাছে জীবনের হিসাব গুলো কত সহজ! আমি বললাম,“এইসব শুধু গল্প উপন্যাসে হয় নীলা…তুমি চলে যাও।”
নীলার মুখের রেখাগুলো শক্ত হয়ে আসে..”যাচ্ছি..তোমার মিথ্যে ভরা চিঠিগুলো ফেরত নিয়ে যাও..কত ইনিয়ে বিনিয়ে ভালবাসার কথা লিখতে..”
নীলার হাতে চিঠি দেখে খারাপ লেগেছিল একটু।কেন যেন মনে হচ্ছিল এখন নীলার হাত দুটো চেপে ধরে বলি যেওনা..আমি সত্যিই তোমাকে ভালবাসি।হয়তো খুব বেশি না.. কিন্তু যতটুকু ভালবাসতে আমি জানি,সেটা কেবল তোমাকেই।
আমি বলিনি, বলেছিলাম,“ফেলে দাও চিঠি গুলো..”
নীলা কেদেছিল..১৯ টা চিঠি,ফেলে চলে গেছিল। আর আসেনি..আমি মুখে ডাকিনি।
মনে ডেকেছি,আমি যেদিন সানিয়াকে বিয়ে করেছি সেদিনও ডেকেছি। তার পর আস্তে ভুলে গেছি.. স্ত্রী সন্তান সবকিছুতেই ব্যাস্ত হয়ে গেছিলাম..নটা পাচটা অফিস, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, তাদের পড়াশোনার খোজ নেয়া, মাঝে মাঝে সানিয়াকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, ওকে এটা সেটা কিনে দিয়ে খুশি রাখা… আহা ! কি আদর্শ স্বামী এবং বাবা আমি!
কিন্তু আজ,২০ বছর পর..এই রকম ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির বিশ্রী সন্ধ্যায়, টিপিক্যাল দায়িত্বের ভারে আমি ক্লান্ত… তখন আর সানিয়াকে আর সহ্য হয়না। সানিয়ার মাঝে আমি নীলাকে খুজি..কিন্তু পাইনা। আবার মনে মনে ডাকি তাকে.. চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছা করে! কেন আমি তাকে চলে যেতে বলেছিলাম?? কি হত আর একটা বছর অপেক্ষা করলে?
চিঠিগুলোর কথা মনে পড়ে খুব..অযত্মে অবহেলায় মাটির সাথে মিশে গেছে এতদিনে। যেই চিঠিগুলো একসময় নীলা নামের ভার্সটি পড়ুয়া সুন্দরী রক্ষনশীল এক নারীর বুকের স্পর্শ পেয়েছিল..!
নীলার গল্পঃ
২০ বছর অনেক সময়।
১৯ টা চিঠি মুখস্ত হয়ে গেছে নীলার..প্রথম প্রথম প্রতিদিন পড়ত সে। তার স্বামী সাব্বির, স্বামি হিসেবে সাব্বিরকে অনেকবার ভালবাসতে চেষ্টা করেছে সে..পারেনি। আজ সাব্বিরকে নীলা ভালবাসে,যতটুকু ভালবাসা নীলার সন্তানের বাবার পাওয়া উচিত,ততটুকু।
নীলার ভালবাসাগুলো জমা হয়ে আছে বেডরুমের এক গোপন জায়গার গোপন বাক্সে..১৯ টা চিঠি কয়েকটি ন্যাফথলিন দিয়ে ঢাকা।
ভালবাসা জীবনে একবারই আসে, অথবা কখনো আসেনা। সাদা রঙের ন্যাফথলিন ১৯ টা চিঠিকে পচতে দেয়নি..আর…
…আর নীল রঙের একটা আবেগকে নীলা ২০ বছর ধরে কমতে দেয়নি!!