← Site আমি যেভাবে ভালো মানুষ হয়ে উঠলাম

Chapter 7 / 51 · 3 min

6.023 X 10^23


এইভাবে মৌমিতার সাথে দেখা না হয়ে গেলেও পারতো।

আগাগোড়া বদলে গেছে সে,ভার্সিটিতে যতদিন দেখেছিলাম.. তত দিন আহামরি কিছু মনে হয়নি।গড়পড়তা সাধারন মেয়েদের মতো চেহারা..শুধু বৃহস্পতিবার সেজেগুজে থাকত , অন্যসময় সাজগোজ করতো না।

কিন্তু আজ মনে হচ্ছেনা চারবছর আগেকার ক্যাফেটেরিয়ার সেই মৌমিতাকে দেখছি। উচ্চবিত্ত প্রসাধনীর গুনে মধ্যবিত্ত মৌমিতাকে আর খুঁজে পেলাম না।পরনের শাড়ীটাও সুন্দর.. নীলের মাঝে সাদা শিফনের কাজ।মেয়েটকে দেখে আমার ভেতর কম, অথচ উপেক্ষা করা যায়না এমন একটা শুন্যতা সৃষ্টি হলো।

মৌমিতার চেহারা বদলে গেলেও প্রিয়জনের হাত ধরার ভঙ্গীটি বদলায়নি, সেই একইভাবে সাব্বিরের হাতটা মুঠোয় ধরে রেখেছে- ঠিক যেভাবে চারবছর আগে আমার হাত ধরে রাখতো! আংগুলের ফাক গুলো আবার অনেক দিন পর শিরশির করে উঠলো পুরোনো উষ্ণতার কথা ভেবে।

চার বছর আগে.. একই ভার্সিটিতে একই ডিপার্টমেন্টে ইন্জিনিয়ারিং পড়তাম আমরা! কোনরুপ আনুষ্ঠানিক ব্যাপার স্যাপার ছাড়াই আমরা সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম - নিজেদের তাগিদে।

আমার এখনো মনে আছে.. একবার ডাটা স্ট্রাকচার ল্যাবের পর, প্লাজার সিড়িতে বসে মৌমিতা জিগ্যেস করেছিলো,“আমায় ভালবাসিস??”

আমি বললাম,“এইটা কি মুখে বলে দেবার দরকার আছে?”

“আছে..আমি স্পেসিফিক এনসার চাই!”

“হুম ভালবাসি!!”

“কতটা ভালোবাসিস?”

“6.023 x 10^23 এর মতো বিশাল আমার ভালবাসা!!”

মৌমিতা আতকে উঠলো..”মাত্র এইটুকু?”

আমি হাসলাম..”কম মনে হচ্ছে তোর? 6.023 x 10^23 টা বালুর কনা দিয়ে পুরা পৃথিবীর সারফেস দুইবার ভরাট করে দেয়া যায়,জানিস এটা..?”

“হইসে হইসে.. আতলামী করতে হবে না.. তাও কম হয়ে যায়!”

অথচ আমার এই ভালবাসা লিমিটেড হলেও, কম কিছু ছিলো না। সবসময় কন্সট্যান্ট ছিলো.. আর মৌমিতার অসীম ভালোবাসা একসময় সসীম হয়ে শেষে শুন্য হয়ে গেলো।

ভার্সিটির থার্ড ইয়ারের শেষে মৌমিতার বিয়ে হয়েছিলো.. বিয়ের আগে মৌমিতা আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলো। এক্সিডেন্ট করে তখন আমি হাসপাতালে.. মৌমিতা সেই দিনও নীল শাড়ী পড়ে এসেছিলো।

চোখে পানি চিক চিক করছিলো তার.. হৃদয় কিংবা গ্লিসারিন - যেই কারনেই কাদুক.. আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো ওকে দেখে.. ও বললো,“আমাকে মাফ করে দিস রে..”

“ক্যান?”

“তুই জানিস না.. আমার বিয়ে ঠিক হইসে?”

“তা জানি.. বাট তুই বিয়ে করবি কিনা জানিনা..”

মৌমিতার মুখের দুঃখতা চলে গিয়ে সেখানে রুক্ষতা চলে আসলো। বললো,“দ্যাখ.. আমি আমার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যেতে পারবো না.. বোঝার চেষ্টা কর.. তোকে বিয়ে করা তো কোনভাবেই সম্ভব না- কখনোই”

“ছেলের নাম কি রে?”

“সাব্বির..”

তারপর চারবছর কেটে গেছে.. চারবছর পর আজ শপিং মলে নিরাপদ দূর থেকে দেখলাম মৌমিতাকে। ভালোই মানিয়েছে.. চোখে মুখে সুখের ছাপ স্পষ্ট। আমার সাথে থাকলে হয়তো সুখী হতো না।

চোখের গোড়ায় শির শির করছে.. কিছু একটা দলা পাকিয়ে গলায় আটকে আছে-ঢোক গিলতে পারছিনা,ভয়ংকর কষ্ট হচ্ছে.. খুব সম্ভবত 6.023 x 10^23 সংখ্যক ভালোবাসার অনূভুতি এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি!

ক্রাচের উপর ভর করে আমি হাটা শুরু করলাম.. দূর থেকে অন্যের সুখ দেখে জেলাস হবার কিছুই নেই.. ক্রাচের উপর ভর করে হাটতে আর ভালো লাগেনা।

রাগ লাগছে- প্রচন্ড রাগ। কিন্তু রাগটা ঠিক মৌমিতার উপর, নাকী ক্রাচের উপর - ঠিক বুঝলাম না!!