← Site আমি যেভাবে ভালো মানুষ হয়ে উঠলাম

Chapter 6 / 51 · 4 min

ভেঙ্গে চুরে গেছে এই শহর


রুমে ঢুকেই তন্ময় দরজা বন্ধ করে দিল। মেয়েটাকে খুব আড়ষ্ট মনে হচ্ছে, তন্ময় এই বনানী সম্পর্কে অনেক কথা শুনে এসেছে, শুনে শুনে এইখানকার মেয়েদের সম্পর্কে তার যেমন ধারনা হয়েছিল, সে দেখলো সেটি পুরোপুরি সত্য নয়।

তার ধারণা ছিল নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহার করে উচ্চবিত্ত মেয়ের চেহারা ধারণ করতে যাওয়া কোন মেয়েকে দেখবে, কিংবা পান খেয়ে ঠোট লাল করা কেউ - কিংবা শাড়ির আচল ফেলে দিয়ে বুকের অনেকখানি দেখানোর চেষ্টা করছে - এমন কেউ।

কিন্ত সে এরকম কিছুই দেখল না। সিম্পল, একদম সিম্পল একটা মেয়ে। সাদা শিফনের পাতলা অথচ সুন্দর একটা শাড়ী পড়া। তন্ময় মেয়েটার বুকের দিকে কয়েকবার তাকিয়েও খুব বেশী কিছু বুঝতে পারল না। অদ্ভুত, এইখানকার মেয়েদের এমন হবার কথা নয়।

মেয়েটি লজ্জা পাচ্ছিল, অথচ তার লজ্জা পাবার কিছু নেই। এসবে এতদিনে অভ্যস্থ হয়ে যাবার কথা, নাকি মেয়েটি নতুন?

“দেখুন , আমাকে অন্যভাবে নেবেন না… আমি এইখানে কিছু করতে আসিনি”

তন্ময়ের কথা শুনে মেয়েটি অবাক চোখে তাকায়, তন্ময় হঠাত খেয়াল করল মেয়েটার চোখ দুটো সুন্দর! মেয়েটি বলল, “তাহলে?”

“আমি আপনার গল্প শুনতে চাই”

“কিন্তু এইখানে আমি আপনাকে গল্প বলতে আসিনি, আপনার যেটা বিনোদোন- ওটুকু আমার প্রফেশন। এর বাইরে আমরা না যাই”

তন্ময় অবাক হলো, এই ধরনের মেয়েরা সাধারনত এই রকম গুছিয়ে কথা বলেনা। মেয়েটার প্রতি একটা ভাল লাগা কাজ করতে লাগলো তার- যদিও এই রকম মেয়ের প্রতি তার কোন ধরনের ফিলিংস কাজ করেনা। কাজ করা উচিত ও না।

তন্ময় বলল, “দেখুন , আমি একটা মুভি বানাচ্ছি। প্লট হচ্ছে এই প্রস্টিটিউশন। আমি তাই গল্প খুজছি। আপনি আমাকে হেল্প করলে ভাল হত। আর আমি তো বিনে পয়সাতে হেল্প করতে বলতেসিনা!”

“তাই? কত দেবেন?”

“কত চান!”

“দেন যা খুশি”, বলে মেয়েটা চোখ নামিয়ে ফেলল! অপরাধবোধের কি প্রগাঢ় ছায়া তার মুখে! তন্ময় একটা অসাধরন গল্পের আশায় হাজার টাকা ধরিয়ে দিল মেয়েটিকে।

তারপর বলল, “আপনার নাম?”

“ইপ্সিতা!”

“এইটা কি আসল নাম?”

“নাহ আসল নাম বলার প্রয়োজনবোধ করছিনা”

তন্ময় একটু অবাক হলো, মেয়েটাকে প্রথমে যতটা নরম মনে হয়েছিল, ততটা নরম তো না। মেয়েটাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখলো সে। অনেক বেশী সুন্দরী না হলেও, আকর্ষনীয় বলা যায়। সে বলল, “আপনার যা খুশি । আমাকে একটু বলবেন? আপনি এই পেশায় এসেছেন কেন?”

“আপনি কি সাংবাদিক?”

“নাহ আগেই বলেছি , আমি একজন ফিল্ম মেকার- গল্প খুজছি ফিল্মের জন্য… “

‘আচ্ছা শুনুন তবে”, বলেই মেয়েটা তার জীবনের কথা বলা শুরু করলো। তন্ময় শুনছিল, কিন্তু তার কাছে ইন্টারেস্টিং কিছু মনে হলো না।গ্রামে ছিল একসময়, পড়াশোনার জন্য ঢাকায় এসেছিল, কিন্তু এইখানে টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। তাই এই রকম একটা প্রফেশন বেছে নেয়া। এইটা ওর ফার্স্ট টাইম না, থার্ড টাইম।

“জানেন… এর আগের দুইজন পশু ছিল একদম… “

তন্ময় বলল, “হুম… “

“আমি আসলে আপনাকে দেখে ইম্প্রেসড কিছুটা। আমার আজকে মনটা খুবই খারাপ ছিল - নেহাত টাকা টা লাগবে বলে এইখানে আসা। নাহলে আর আসতাম না আজ…”

তন্ময় শুরুতে যতটুকু আগ্রহ নিয়ে এসেছিল , এখন আর তেমন টা নেই। সব সময় সবার কপালে গল্প উপন্যাস জোটে না। তন্ময় ঠিক করল, মুভি সে অন্য কিছুর উপর করবে।

তন্ময় আবার মেয়েটার দিকে তাকালো। এইবারে মেয়েটার বুকের দিকে।কাছ থেকে বেশ ভাল বোঝা যাচ্ছে। হুম…মেয়েটা আসলেই দেখতে ভাল। তাছাড়া এত টাকা খরচ করে এইখানে এসেছে, টাকা টা উশুল করা উচিত। আর এইসব তো এমন খারাপ কিছু ও না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মত লোকের ও যাতায়াত ছিল।

তন্ময় বলল, “তুমি আসলে অনেক সুন্দর!”

ইপ্সিতা বিস্ফোরিত চোখে তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে রইল। কি একটা কথা গলা পর্যন্ত এসে ঠোটে আটকে গেল..আমতা আমতা করে বলল, “আপনি না বলেছিলেন… “

তন্ময় বিরক্ত হয়ে বলল, “কাছে আস তো!”

ইপ্সিতা নিজের উপর বিরক্ত, এতদিনেও অবাক হবার ক্ষমতাটুকু মরে গেল না কেন! তৃতীয়বারের মতো সে তার কাপড় খুলতে থাকে। ভেঙে চুরে যেতে থাকে বিশ্বাস, ভেঙ্গে চুরে যায় ভালবাসা। ভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাসের ভাঙ্গা যন্ত্রণা বলে দিচ্ছে ভেঙ্গে চুরে গেছে এই শহর।

এই শহরে ইপ্সিতা একা, নিঃসঙ্গ একেলা।